অন্য বসন্তের অন্যরকম সাফল্য
সুচিত্রা ভট্টাচার্য উপন্যাস লিখেছিলেন 'অন্য বসন্ত'। নিমাইয়ের 'মেমসাহেব' ঘরানারই একটা উপন্যাস। কিন্তু এই উপন্যাস পড়ার সময় কেউই বোধহয় কল্পনায় আনতে পারবেন না এমন একটি উপন্যাসকে সিনেমায় রুপ দেয়া চলে...
২০১৫ সালে আড়ালে থেকে যেতে পছন্দ করা এক নির্মাতা অদিতি রায় এই এই উপন্যাসকেই বানিয়ে বসলেন ছোট পর্দার সিনেমা। গল্পের দিকে যাওয়ার আগে এই মুভির ন্যারাটিভ নিয়ে কথা বলা বোধহয় প্রয়োজন। কেননা, এই মুভিটা যখন নির্মিত হচ্ছে কলকাতা শহর তখন এক ট্রাঞ্জিশনাল সময় পার করছে। তাদের নিজস্ব বলতে যা কিছু ছিল তার সবটাই উধাও হয়ে এই শহরে ঘনত্ব বাড়তে থাকে সিক্সটিজ টু এইটিজের ফ্রেঞ্চ কালচারের। যেখানে ওয়াইন, এক্সট্রা ম্যারিটাল এফেয়ার আর হিপোক্রেসি মিলেমিশে একাকার। ঠিক সে সময়ে কনজারভেটিভ উচ্চাকাঙ্খী এক মধ্যবিত্ত পরিবার আর তাদের এক সাধাসিধে জীবনের গল্প বলে যাবে এই পুরো সিনেমার ডিউরেশনটা।
একটা কলেজ পড়ুয়া সাধারণ ঘরের মেয়ে তন্বিষ্ঠা যার বিয়ে ঠিক হয়ে আছে অভিজাত পরিবারের এক ছেলের সাথে তার জীবনে আচমকা এক বিয়ের রাতে পরিচয় হয় এমবিশন বিহীন এক যুবকের নাম অভিমন্যু। যে জীবনকে ভালবাসে সহজাতভাবেই, যেখানে উচ্চবিলাস এর ছিটেফোঁটাও উপস্থিত নেই। ছেলেটা কেমিস্ট্রি থেকে এমএস করে নিজেই দিয়ে দেয় সেন্টের ছোট এক ফ্যাক্টরী। তার জীবনে স্থানীয় রাজনীতি, পরিবারের টানাপোড়েন, তার অসুস্থ মা ইত্যাদির ভীড়ে নতুন করে স্থান করে নেয় তন্বিষ্ঠা। একটা সময়ে গিয়ে দুজনেই দ্বিধাদ্বন্দে পড়তে শুরু করে কমিটমেন্ট এর ফাংশনে। বাড়তে থাকে দূরত্ব, লুকোচুরি খেলা আর বিরহ। শেষে বিলাসিতার ঝোপ ছেড়ে মেয়েটা এমবিশনলেস কিন্তু উপভোগ্য ছেলেটাকেই বেছে নেয়।
এমবিশনবিহীন এক যুবকের চরিত্রে কৌশিক রায়ও অসাধারণ ছিলেন। তার প্রতিটি ফুটস্টেপ এ তিনি শৈলীর পরিচয় দিয়েছেন। কখনো রাগী, কখনো অনুতাপে ভোগা, কখনো নীরবতাসুলভ বাচনভঙ্গি তার চরিত্রকে পূর্ণতা দিয়েছে বলা যায়।
পুরো সিনেমায় ইন্টারেস্টিং ক্যারেক্টার হলেন কমলেশ্বর মুখার্জি তথা তন্বিষ্ঠার বাবা। ভদ্রলোক রিটায়ারমেন্টের আগেই গোল্ডেন হ্যান্ডশেকের মাধ্যমে হয়ে পড়েন ঘরকুনো। যৌবন থেকেই তার রক্তে মিশে আছে থিয়েটার স্ক্রিপ্ট। অথচ তিনি এই ফ্রেঞ্চ কালচারের এডাপ্টেশনে থিয়েটার জগতের এত চেঞ্জ মেনে নিতে পারছিলেন না। তার মনে হচ্ছিল তিনি এক অন্ধকার নদীতে সাঁতড়াচ্ছেন যার দু'পাড়েই আলো। তার উদাসীন মানসিকতা তাকে বারবার প্রিয় করে তুলছিল মেয়ের কাছে। তার কাছেও ধরা পড়ছিল মেয়ের মনে চলা নিরুত্তাপ দ্বিধাবোধ। উপভোগ্য বটে...
এই মুভিটা বড় স্ক্রিনে মুক্তি দেয়া হয়নি, টিভিতে প্রিমিয়ার হয়েছিল। বাজেট ছিল কেবলই ২০লাখের কিছুটা কাছাকাছি। অদিতি রায় এই স্বল্প বাজেটে যে দুর্দান্ত কাজ উপহার দিয়েছেন তা প্রশংসার দাবীদার। এই সিনেমায় ব্যবহৃত ক্যামেরাগুলো ভালো নয়, সাউন্ডেও আছে বেশ কিছু সমস্যা। চিত্রনাট্যেও এমনকিছু পাওয়া যায়নি যা বেশ চ্যালেঞ্জিং কোনো পরিচালকের পক্ষে। কিন্তু তারপরেও নীল মিত্র এই স্বল্প বাজেটে এমন এক মনোরোম স্ক্রিনপ্লে উপহার দিয়েছেন দর্শকদের, পুরো ডিউরেশনে আপনার ভেতরে একবারও বিরক্তিবোধ কাজ করবেনা। এই সিনেমায়ই এক প্রসঙ্গে কমলেশ্বর মুখার্জির ডায়ালগ ছিল, ''এমবিশনটা থাকলেও 'নীড় ছোট, ক্ষতি নেই' ধারণাটাও আমাদের ভেতর ছিল।'' এই ডায়ালগের সাথে অদিতি রায়ের পরিচালনা কোথাও একটা যেন মিলে যায়।
পুরো সিনেমায় ইন্টারেস্টিং ক্যারেক্টার হলেন কমলেশ্বর মুখার্জি তথা তন্বিষ্ঠার বাবা। ভদ্রলোক রিটায়ারমেন্টের আগেই গোল্ডেন হ্যান্ডশেকের মাধ্যমে হয়ে পড়েন ঘরকুনো। যৌবন থেকেই তার রক্তে মিশে আছে থিয়েটার স্ক্রিপ্ট। অথচ তিনি এই ফ্রেঞ্চ কালচারের এডাপ্টেশনে থিয়েটার জগতের এত চেঞ্জ মেনে নিতে পারছিলেন না। তার মনে হচ্ছিল তিনি এক অন্ধকার নদীতে সাঁতড়াচ্ছেন যার দু'পাড়েই আলো। তার উদাসীন মানসিকতা তাকে বারবার প্রিয় করে তুলছিল মেয়ের কাছে। তার কাছেও ধরা পড়ছিল মেয়ের মনে চলা নিরুত্তাপ দ্বিধাবোধ। উপভোগ্য বটে...
এই মুভিটা বড় স্ক্রিনে মুক্তি দেয়া হয়নি, টিভিতে প্রিমিয়ার হয়েছিল। বাজেট ছিল কেবলই ২০লাখের কিছুটা কাছাকাছি। অদিতি রায় এই স্বল্প বাজেটে যে দুর্দান্ত কাজ উপহার দিয়েছেন তা প্রশংসার দাবীদার। এই সিনেমায় ব্যবহৃত ক্যামেরাগুলো ভালো নয়, সাউন্ডেও আছে বেশ কিছু সমস্যা। চিত্রনাট্যেও এমনকিছু পাওয়া যায়নি যা বেশ চ্যালেঞ্জিং কোনো পরিচালকের পক্ষে। কিন্তু তারপরেও নীল মিত্র এই স্বল্প বাজেটে এমন এক মনোরোম স্ক্রিনপ্লে উপহার দিয়েছেন দর্শকদের, পুরো ডিউরেশনে আপনার ভেতরে একবারও বিরক্তিবোধ কাজ করবেনা। এই সিনেমায়ই এক প্রসঙ্গে কমলেশ্বর মুখার্জির ডায়ালগ ছিল, ''এমবিশনটা থাকলেও 'নীড় ছোট, ক্ষতি নেই' ধারণাটাও আমাদের ভেতর ছিল।'' এই ডায়ালগের সাথে অদিতি রায়ের পরিচালনা কোথাও একটা যেন মিলে যায়।
এই মুভি দু'টো কারণে অনেকদিন মনে রাখার মতো। তার সংলাপ এবং গান। বাংলাদেশি নির্মাতা মাসুদ হাসান উজ্জ্বলের 'যে জীবন ফড়িংয়ের' এই নাটকটি সংলাপ নির্ভর৷ তেমন কাজ এখন আর দেখাই যায় না। অন্য বসন্তের সাথেও আমি এই ব্যাপারটি রিলেট করতে পেরেছি। কেমন যেন মনে হবে তারা সব কবিতার মধুর লাইন আওড়ে যাচ্ছেন, যেন পেত্রার্ক এসে লিখে যাচ্ছেন পরের চরণ। 'ওরে নির্বোধ ওটা অন্য পৃথিবী, আর তোর বড্ড দেরি হয়ে গেছে', 'পঞ্চাশের আগে পরে আমাদের পার্থক্য কিসে? স্বপ্নে নাকি এমবিশনে?', 'মনের বিরুদ্ধে কিছু করতে যেও না', 'নীড় ছোট ক্ষতি নেই' এমন সব হার্টটাচি সংলাপে ভরপুর এই স্বল্প বাজেটের সিনেমা। মহীনের ঘোড়াগুলির এক বিখ্যাত গান 'তাকে যত তাড়াই দুরে দুরে' এই সিনেমায় প্লেব্যাক করেছেন লগ্নজিতা আর দিব্যেন্দু। এছাড়াও দিব্যেন্দুর কম্পোজে এই মুভির শ্রেষ্ঠ গান 'অন্য বসন্ত' গেয়েছেন রুপংকর বাগচী।
'অন্য বসন্ত'কে কি বলা যায়? ঠিক জানিনা আমি। অনেক ভালো মুভি নয়ই, ব্যবসাসফলও না। কিন্তু, এই মুভি আপনি একাধিকবার দেখবেন। এটায় এই মুভির একমাত্র সাফল্য এখন অবধি।।
Written By: Saeed Khan Shagor
Re-edited and Organized By: Ankon Dey Animesh
Written By: Saeed Khan Shagor
Re-edited and Organized By: Ankon Dey Animesh







Bahh
ReplyDeleteঅসাধারণ লিখেছেন
ReplyDelete"অন্য বসন্ত" মানে আমার কাছে জীবনের বসন্ত কে অন্য রূপে আবিষ্কার করা। ভালো থাকবেন। শুভ কামনা।
ReplyDelete